Header Ads

নারীদের পোশাক কেমন হওয়া উচিৎ?


পোশাক মানব
জীবনের অনিবার্য
অবলম্বন। ইসলাম নারী-
পুরুষের পোশাক
সম্পর্কিত বিস্তারিত
বিধি বিধান
দিয়েছে। সতর
উপযোগী পোশাকই
কেবল পুরুষের ফরয পোশাক। কিন্তু
মহিলাদের ফরয পোশাক দুই প্রকার: এক. সতর
ঢাকার উদ্দেশ্যে পরিধেয় পোশাক; দুই.
হিজাব বা পর্দার উদ্দেশ্যে পরিধেয়
পোশাক। পুরুষ বা মহিলার শরীরের
যে অংশকে সর্বদা ঢেকে রাখা ফরয
তাকে আরবিতে বলা হয় সতর। সতর ও
পর্দা এক নয়, আলাদা আলাদা বিষয়।
উভয়টির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
সতর ঢাকা আদিকাল থেকেই ফরয। আর
হিজাব বা পর্দা ফরয হয়েছে ৫ম
হিজরিতে। সতর ঢাকা পুরুষ মহিলা উভয়ের
ওপর ফরয। আর হিজাব শুধু মহিলাদের ওপর
ফরয। সতর মানুষের সামনে ও নির্জনে উভয়
অবস্থায় ফরয।
(কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আছে,
যা পরে উল্লেখ করছি) আর হিজাব
মেনে চলতে হয় কেবল গাইরে মাহরাম
বা পর-পুরুষের উপস্থিতিতে।
[মাআরেফুল কুরআন : ৭/৮৯-৯১]
মহিলাদের সতর
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ﻗُﻞ ﻟِّﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻐُﻀُّﻮﺍ ﻣِﻦْ ﺃَﺑْﺼَﺎﺭِﻫِﻢْ ﻭَﻳَﺤْﻔَﻈُﻮﺍ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻢْ ﺫَﻟِﻚَ ﺃَﺯْﻛَﻰ
ﻟَﻬُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺧَﺒِﻴﺮٌ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﺼْﻨَﻌُﻮﻥَ ﻭَﻗُﻞ ﻟِّﻠْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﻳَﻐْﻀُﻀْﻦَ ﻣِﻦْ
ﺃَﺑْﺼَﺎﺭِﻫِﻦَّ ﻭَﻳَﺤْﻔَﻈْﻦَ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻦَّ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺒْﺪِﻳﻦَ ﺯِﻳﻨَﺘَﻬُﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ
ﻭﻟﻴﻀﺮﺑﻦ ﺑﺨﻤﺮﻫﻦ ﻋﻠﻰ ﺟﻴﻮﺑﻬﻦ،
তরজমা : ঈমানদার নারীদেরকে বলুন,
তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত
রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের
হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত
প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য
প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের
মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে।
[সূরা নূর : ৩০-৩১২]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতের
ব্যাখ্যায় আপন হাতে নিজের মুখমন্ডল
এবং দুই হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুলের
ডগা পর্যন্ত দেখিয়ে বলেন, ‘নারী যখন
বালেগা (প্রাপ্ত বয়স্কা)
হয়, তখন থেকে তার মুখমণ্ডল
এবং হাতের কব্জির নিচের অংশ
ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ
খোলা থাকা উচিত নয়। [সুনানে আবু
দাউ : ২/৫৬৭]
ফুকাহায়ে কেরাম মুখমণ্ডল ও হাতের
কব্জির ওপর কিয়াস করে পায়ের
পাতাকেও সতরের বর্হিভূত বলেছেন।
[তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন : ৭/৯১]
কেউ কেউ উপরোক্ত আয়াতাংশের ﻭﻻ
ﻳﺪﻧﻴﻦ ﺯﻳﻨﺘﻬﻦ ﺍﻻ ﻣﺎ ﻇﻬﺮ ﻣﻨﻬﺎ এই মর্ম উদ্ধার করেন
যে, আল্লাহ তাআলা যেহেতু নারীর
চেহারা, কব্জি পর্যন্ত হাত এবং পায়ের
পাতার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন,
তাই এ অঙ্গগুলো ঘরে-
বাইরে সবখানে খোলা রাখতে পারবে।
বাইরে বের হতেও এগুলো ঢাকার
প্রয়োজন নেই। পর-পুরুষ এ
অঙ্গগুলো দেখতে পারবে। তাদের এ
বক্তব্য সঠিক নয়। কেননা, এ আয়াতাংশের
উদ্দেশ্য কেবল সতরের বিবরণ প্রদান করা।
হিজাব বা পর্দার
সীমানা বর্ণনা করা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
এ বর্ণনা এসেছে সূরা আহযাবের
৫৯নং আয়াতে। এ
প্রসঙ্গে তাফসীরে বাইযাভীতে বলা হয়েছে-
অর্থ: ‘সুস্পষ্ট কথা এই যে, এ বিধান
নামাযের ক্ষেত্রে। পর-পুরুষের দেখার
ক্ষেত্রে নয়। কেননা স্বাধীন মহিলার
পুরো দেহই সতর। স্বামী বা মাহরাম
ছাড়া অন্য কারো জন্য তাদের শরীরের
কোনো অঙ্গের
প্রতি দৃষ্টি দেয়া হালাল নয়।
তবে চিকিৎসা, সাক্ষ্য প্রদান ইত্যাকার
প্রয়োজনে জায়েয’।
[তাফসীরে বাইযাভী : ৫/১১৬-১১৭]
উপমহাদেশের প্রখ্যাত তাফসীরকারক
আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী রহ.
লিখেছেন- ‘মূলত মহিলাদের পুরো দেহ-ই
সতর। সব সময় ঢেকে রাখা জরুরি।
এমনকি নিজের বাড়িতেও। কিন্তু
চেহারা ও হাত সারাক্ষণ
ঢেকে রাখা কষ্টকর। তাই এ
দুটো অঙ্গকে সতরের
বাইরে রাখা হয়েছে। জীবনের
স্বাভাবিক প্রয়োজনেই
এটি করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে,
মহিলারা তাদের চেহারার রূপ-সৌন্দর্য
পর-পুরুষের সামনে খোলা রাখবে, পর-
পুরুষকে দেখিয়ে বেড়াবে। আর পর-
পুরুষকেও এ অনুমতি দেয়া হয়নি যে,
তারা পর-নারীর রূপ-সৌন্দর্য দেখে চোখ
জুড়াবে। শরীয়ত কর্তৃক
কোনো মহিলাকে তার কোনো অঙ্গ
খোলার অনুমতি দেয়ার অর্থ এই নয় যে, পর-
পুরুষ তা দেখতে পারবে।
মহিলারা নির্লজ্জ কাজ করবে, আর
পুরুষরা তা দেখে-দেখে কামনার
আগুনে জ্বলবে, এমন বেহায়াপনার
পঙ্কিলতা থেকে ইসলামি শরীয়ত পবিত্র।
মোট কথা, মহিলারা তাদের রূপ-সৌন্দর্য
ও সাজগোজ স্বামী বা মাহরাম পুরুষ
ছাড়া অন্য
কাউকে দেখাতে পারবে না।
এটি হারাম। মাহরাম পুরুষ দেখতে পারবে,
তাও শর্ত সাপেক্ষে। সে শর্তটি হচ্ছে,
ফিতনার আশংকা না থাকতে হবে।
(আজকাল মাহরাম পুরুষদের দ্বারা অঘটন
ঘটার খবর মাঝে-মধ্যে পত্রিকায় আসছে।)
এ আয়াতে মূলত সতরের
সীমা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য।
যাতে মহিলারা বাড়িতে সতর
ঢেকে চলাফেরা ও কাজকর্ম
করতে পারে। তাই বলে দেয়া হয়েছে,
কতটুকু ঢাকা ফরয, আর কতটুকু
খোলা রাখা জায়েয। এ আয়াতে এ
কথা বলা হয়নি যে, কার সামনে মুখ
খোলা রাখা যাবে এবং কার
সামনে খোলা রাখা যাবে না,
ঢেকে রাখতে হবে। এ
সম্পর্কে পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে।
সুতরাং এ আয়াত দ্বারা যদি পুরুষ-মহিলার
দেখা-সাক্ষাতের দলীল পেশ করা হয়,
তাহলে তা বোকামী ছাড়া কিছুই নয়।
[মাআরেফুল কুরআন, কৃত : মাওলানা ইদরীস
কান্ধলভী রহ.-৫/৪৮৫-৪৮৬]
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আপন
স্ত্রী ও শরীয়ত সম্মত
বাঁদী ছাড়া যে কারো কাছ
থেকে নিজের সতরকে গোপন রাখবে।
জনৈক সাহাবি আরজ করলেন, আমরা যখন
নির্জনে থাকি তখন কি হুকুম? রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন, আল্লাহ তাআলা এ কথার অধিক
হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করবে।
[সুনানে আবু দাউদ : ৪০১৯]
একান্ত নির্জনে সতরের যতটুকু খোলা যায়
যদিও সতরের মূল হুকুম এই যে, একান্ত
নির্জনেও তা ঢেকে রাখতে হবে। তবুও
শরীয়ত
কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা অবকাশ
দিয়ে রেখেছে। যেমন, গোসলখানায়
যদি কেউ দেখার সম্ভাবনা না থাকে,
তাহলে সতর খোলার অবকাশ আছে। প্রচণ্ড
গরমের কারণেও সতরের কিছু অংশ
খোলা জায়েয আছে। অবশ্য, তাও কেউ
না দেখার শর্তে।
মাহরাম পুরুষের সামনে সতরের যতটুকু
খোলা যায় আল কুরাআনুল কারীমে ইরশাদ
হচ্ছে,
ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺒْﺪِﻳﻦَ ﺯِﻳﻨَﺘَﻬُﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﺒُﻌُﻮﻟَﺘِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺁﺑَﺎﺋِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺁﺑَﺎﺀِ ﺑُﻌُﻮﻟَﺘِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ
ﺃَﺑْﻨَﺎﺋِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀِ ﺑُﻌُﻮﻟَﺘِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﺑَﻨِﻲ
ﺃَﺧَﻮَﺍﺗِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﻧِﺴَﺎﺋِﻬِﻦَّ ﺃَﻭْ ﻣَﺎ ﻣَﻠَﻜَﺖْ ﺃَﻳْﻤَﺎﻧُﻬُﻦَّ ﺃَﻭِ ﺍﻟﺘَّﺎﺑِﻌِﻴﻦَ ﻏَﻴْﺮِ ﺃُﻭﻟِﻲ
ﺍﻟْﺈِﺭْﺑَﺔِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ ﺃَﻭِ ﺍﻟﻄِّﻔْﻞِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻟَﻢْ ﻳَﻈْﻬَﺮُﻭﺍ ﻋَﻠَﻰٰ ﻋَﻮْﺭَﺍﺕِ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ
ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻀْﺮِﺑْﻦَ ﺑِﺄَﺭْﺟُﻠِﻬِﻦَّ ﻟِﻴُﻌْﻠَﻢَ ﻣَﺎ ﻳُﺨْﻔِﻴﻦَ ﻣِﻦْ ﺯِﻳﻨَﺘِﻬِﻦَّ ۚ ﻭَﺗُﻮﺑُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﺃَﻳُّﻪَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ
“এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা,
শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র,
ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী,
যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক,
যারা নারীদের গোপন অঙ্গ
সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত
কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ
না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-
সজ্জা প্রকাশ করার জন্য
জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ,
তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর,
যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা নূর : ৩১]
উপরোক্ত আয়াতের সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে,
নারীগণ স্বামী ছাড়াও ঐসব আত্মীয়দের
সামনে নিজেদের রূপ- সৌন্দর্য প্রকাশ
করতে পারবে যারা মাহরাম। অর্থাৎ
যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন
করা চিরস্থায়ীভাবে হারাম। এ অবকাশ
এ জন্যে দেয়া হয়েছে যে, নারী যেন
স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ-কারবার
আঞ্জাম দিতে পারে।
[চেহ্রে কা পর্দা পৃ: ২১]
কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী রহ.
তাফসীরে মাযহারীতে লিখেন, ‘মাহরাম
পুরুষের জন্য জায়েয আছে যে,
তারা মাহরাম মহিলার ঐ
অঙ্গগুলো দেখতে পারবে, যেগুলো ঘরের
কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার
কারণে খুলে যায়। সেগুলো হচ্ছে,
চেহারা, মাথা, সীনার উপরিভাগ, দুই
পায়ের গোছা, এবং দুই বাহু।
[তাফসীরে মাযহারী : ৬/৪৯৭]

অঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা রাখা ঠিক
নয়। কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার
কারণে যদি খুলে যায় তাতে গোনাহ
নেই।
সংগ্রহেঃ মহসিন ফরিদ
Mohseenfarid@yahoo.com

Powered by Blogger.