Header Ads

ইসলামই স্বাধীনতার প্রবর্তক...

২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ।
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী
সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার ৪৪তম
বার্ষিকী । ১৯৭১ সালের এই দিন
থেকে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬
ডিসেম্বর অর্জিত
হয়েছিল বাঙালীর কাঙ্খিত মহান বিজয় ।
সে বিজয়ে বিশ্বমানচিত্রে ঠাঁই করে
নেয় লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ । আমাদের
হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়
পাওয়া এ স্বাধীনতা ।
স্বাধীনতার তাৎপর্য ও মাহাত্ম:
স্বাধীনতা: একটি ব্যাপক তাৎপর্যময় ও মর্মস্পর্শী শব্দ
। স্বাধীনতার জন্য
মানুষ সবকিছুই করতে পারে । পারে অস্ত্র ধরতে,
নিজের মূল্যবান জীবন বিলাতে
এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে । কোন
প্রকার বাধা-বিঘ্নতা । তাই
স্বাধীনতা হচ্ছে মানবজাতির স্বভাবজাত বিষয় ।
কেউ চায়না অন্যের পরাধীন হয়ে
বাঁচতে । তাই মহান রাব্বুল আলামীন সুন্দর-শোভাময়
এই স্বাধীনতার
স্বভাবগুণে ভূষিত করেই সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির
সেরা জীব মানবজাতিকে ।
ইসলাম মানবজাতিকে যেসব মৌলিক অধিকার প্রদান
করেছে, তন্মধ্যে স্বাধীনতা
অন্যতম । বরং হৃদপিণ্ডের জন্য যেমন নির্মল বাতাস,
দেহের জন্য আত্মা
প্রয়োজন, তেমনি স্বাধীনতা হচ্ছে মানবসমাজের
প্রতিটি সদস্যের কাঙ্খিত ও
অভীষ্ট লক্ষ্য  ।
ধর্মীয় স্বাধীনতা:
ইসলাম ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ
করে এর জন্য
সুস্পষ্ট নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে । ইসলামের
কালজয়ী আদর্শ হচ্ছে, কাউকে
ইসলাম গ্রহণ করানোর জন্য স্বীয় ধর্ম ত্যাগে বাধ্য
করা যাবে না । বরং
মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে মৌলিক বিষয়
হিসেবে নির্ধারণ করেছে ইসলামের
প্রতি তার সৌন্দর্য ও মাহাত্ম উপস্হাপনের
মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়াকে । মহান
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, দ্বীন
সম্পর্কে কোন জোর-জবরদস্তি নেই,
সত্য-ভ্রান্তি হতে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে । [সূরা আল
বাকারা-২৫৬]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, আপনার প্রতিপালকের
দিকে প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের
মাধ্যমে আহবান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন
উত্তম পন্হায় । [সূরা আন
নাহল -১২৫]
সংখ্যালঘুদের অধিকার:
ইসলাম ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি মুসলিম ও
অমুসলিমদের আচরণ নীতিমালাও
দ্বর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের
ধর্মচর্চা তাদের মৌলিক
অধিকার । সুতরাং কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের
উপাসনালয়ে হামলা কিংবা ভাংচুর
করা যাবে না,তাদের ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে আরোপ
করা যাবে না ন্যূনতম
বাধা-বিঘ্নতাও । বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং ভরণ-পোষণের
ক্ষেত্রে তাদেরকে দেওয়া
হয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা । যা তাদের
ধর্মানুসারে বিধিসম্মত, তারা তাই পালন
করবে । মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
অমুসলিমরা যদি আপনার কাছে
কোন বিচারের জন্য আগমন করে তবে আপনি তাদের
মাঝে বিচার করুন কিংবা তাদের
থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন । [সূরা আল মায়িদা ৪২]
সিহাহ সিত্তার প্রসিদ্ধ
হাদীসগ্রন্হ সুনানে আবূ দাউদ
এবং বাইহাকী শরীফের বর্ণনায় এসেছে,
যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধকে অত্যাচার
করবে, তার ক্ষতিসাধন করবে, কিংবা তার সাধ্যের
অতিরিক্ত তার ঘাড়ে চাপিয়ে
দিবে অথবা তার মালিকাধীন কোন বস্তু জোরপূর্বক
কেড়ে নিবে, কিয়ামতের কঠিন
দিবসে আমি তার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াবো । [আবূ
দাউদ শরীফ, হাদীস
নম্বর-২৬৫৪]

মত প্রকাশের স্বাধীনতা:
ইসলাম চিন্তা ও অভিব্যক্তি প্রকাশের
স্বাধীনতাকে খুব জোরেশোরেই সমর্থন
দিয়েছে । ইসলামের এই চিন্তানৈতিক
স্বাধীনতা এবং এর সফল অনুশীলনের
অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে, ইসলামের তাহযীব-তামাদ্দুন,
কৃষ্টি-কালচার,
চিন্তা-দর্শন এবং শাস্ত্রীয় এ বিপুল ঐতিহ্য এবং এর
ঐতিহাসিক পরম্পরা,
মুসলমানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে কালান্তরে যা বহন
করে আসছেন । তাই ইতিহাসের
বাঁকে-বাঁকে আমরা দেখতে পাই, এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ
জামাআত সাহাবায়ে কেরাম
রা. সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান,
সত্যের দ্বর্থহীন প্রকাশ এবং
কল্যাণের পথে আহ্বান করতে কারো পরোয়া করতেন
না । একথা অনস্বীকার্য যে,
এমন কিছু চিন্তানৈতিক টার্ম, যা ইসলামকে অন্যান্য
মতাদর্শ ও ধর্ম হতে
বিশেষ বৈশিষ্যে ভূষিত করেছে ।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
মুক্ত পলিটিক্স চর্চা এবং রাজনৈতিক
স্বাধীনতা ইসলামের এক গৌরবোজ্জ্বল
অধ্যায় । বিধিসম্মত পন্হায় ক্ষমতা গ্রহণ, শাসকবর্গ
এবং আমলা শ্রেণীর
নজরদারী এবং সুস্হপন্হায় তাদের
সমালোচনা এবং ফলত তাদেরকে সঠিক লক্ষ্যে
নিপতিত করার বিষয়টি ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে ।
এ বিষয়ে একটি ঘটনা
শুনাচ্ছি । হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. এর
স্বর্ণালী শাসনামলের ঘটনা ।
একবার তিনি ভাষণ প্রদানকালে এক গ্রাম্যলোক
তরবারী নিয়ে হযরত উমরের সামনে
দাঁড়িয়ে গেলেন, আর বললেন, হে উমর ! তুমি যদি আল্লাহ ও তার রাসূল [সা.] এর
কথা অনুযায়ী চল তোমাকে আমরা সমর্থন
করব, সহযোগীতা করব । আর তুমি উমর যদি কুরআন-
সুন্নাহ হতে একচুল পরিমাণও
বিচ্যুত হও তবে আমি এ
তরবারী দিয়ে তুমি উমরকে ঠিক করে দেব । একজন মহান
খলীফা, যার নাম শুনলে তৎকালীন পরাশক্তি রোম-
পারস্য থরথর করে কাঁপত: জাতির
উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন, সামান্য একজন গ্রাম্য
লোককে খলীফার বিরূদ্ধে
তরবারী নিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা ইসলামই
দিয়েছে । হযরত উমর পুলিশ বাহিনীকে
বলেননি যে, এই বেয়াদবকে শায়েস্ত করে দাও ।
সে জনসম্মুখে আমাকে লাঞ্চিত
করেছে । এই হচ্ছে ইসলামের মত প্রকাশের বিধিসম্মত
স্বাধীনতার
জাজ্জ্বল্যমান প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
ব্যক্তি ও সমাজের স্বাধীনতার এ হচ্ছে কিছু খণ্ড
চিত্র, ইসলাম যা প্রণয়ন
করেছে বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও উপকারার্থে ।
অপরের ব্যক্তিস্বাধীনতায়
হস্তক্ষেপ কোনভাবেই বৈধ হতে পারে না ।
তবে যদি সমাজ এবং তার সাধারণ
নীতিমালা ও মূল্যবোধের জন্য কেউ হুমকি হয়ে উঠে,
তবে তার স্বাধীনতায়
হস্তক্ষেপ করা শুধু বৈধই নয়, বরং তা একপ্রকার জরুরীও
বটে ।
তাই একথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই যে,
ইসলাম মানবজাতিকে পূর্ণ
স্বাধীনতা দিয়েছে । বলার স্বাধীনতা, চিন্তা-বুদ্ধির
স্বাধীনতা । কিন্তু
অবাধ স্বাধীনতার নামে নোংরামী করা, ময়লা-
আবর্জনা গিলানোর স্বাধীনতা ইসলাম
কাউকে দেয়নি ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এই অধিকার নেই,
মুসলিম সমাজের
যুবকদের তারা বিভ্রান্ত করবে, রাস্ট্রকে কলঙ্কিত
করবে, ইসলাম এবং ইসলামী
কৃষ্টি-কালচারকে সমানতালে আঘাত করবে, এই
অধিকার তাদের নেই ।
আসুন, স্বাধীনতার এই মহান মাসে স্বাধীনতার প্রকৃত
মর্ম অনুধাবনপূর্বক
তাদেরকে শক্তভাবে প্রতিরোধ করি । সমাজকে যেন
তারা কলঙ্কিত করতে না পারে,
পরিবেশকে যেন তারা দূষিত করতে না পারে,
চেতনাকে যেন তারা কালিমাযুক্ত
করতে না পারে, তাদের নোংরা লিখনীকে প্রতিরোধ
করতে হবে । তাদের অশ্লীল
বই-পত্র কেনা বন্ধ করতে হবে । তাদের বই-পত্র
কেনাটাও তাদের একপ্রকার
সহযোগীতার নামান্তর । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে
হেফাজত করুন । এই ধরণের জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবী,
তথাকথিত সুশীল সমাজের করাল
থাবা থেকে এই দেশ, দেশের জনসাধারণ, তাদের ইমান-
একীন এবং তাদের
জ্ঞান-বুদ্ধিকে হেফাজত করুন । আমীন !

Powered by Blogger.