মৃত্যু থেকে কেউ রেহাই পাবেনা....
দুনিয়া এক সময় ধ্বংস হয়ে যাবে।
মানুষসহ সব মাখলুকাতও ধ্বংস হয়ে
যাবে। তারপর আল্লাহপাক
মানুষকে পুনর্জীবিত করবেন।
কোরআনে কারিমে ইরশাদ
হয়েছে-
পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পর
ইসরাফিল আলাইহিস সাল্লাম
পুনরায় শিঙায় ফুঁ দেবেন। ফলে সব
মৃত মানুষ জীবিত হয়ে যাবে এবং
সবাই হাশরের ময়দানে একত্রিত
হবে। পুনরুত্থান ও হাশর-নাশর
সম্পর্কে যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে
না, সে কাফের। হাশরের মাঠে
একমাত্র মানুষ ও জিনের হিসাব
নেওয়া হবে, কোনো পশুর হিসাব
নেওয়া হবে না। সে জন্য
আমাদের পাথেয় সংগ্রহ করে
প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে। দুনিয়ার
জীবন আজ হোক, কাল হোক
একদিন না একদিন শেষ হয়েই
যাবে। আল্লাহপাকের সিদ্ধান্তই
কার্যকর হবে; আর তা আমরা
স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের
দুনিয়ার সীমিত জীবনে যদি কিছু
কষ্টও হয়, তবু তা বরদাশত করে
নিতে হবে। কারণ এটা প্রকৃতপক্ষে
কষ্ট নয়; এ কষ্ট আমাদের জন্য
মিষ্টি বয়ে আনবে। কোরআনে
কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
'মজলুমকে সবাই সাহায্য করে।'
এ পৃথিবীতে কোনো ভালো মানুষ
যদি মজলুম ও অত্যাচারিত হয় আর
তা প্রতিবেশীরা বুঝতে পারে,
তবে সবাই তাদের শক্তি-সামর্থ্য
অনুযায়ী তাকে সাহায্য করতে
এগিয়ে আসে। তার প্রতি
প্রতিবেশীদের সহানুভূতি ও
অনুকম্পা সৃষ্টি হয়। সাহায্য যদি
নাও করতে পারে, তবু তারা
অস্থির হয়ে যায়, দুঃখিত হয়।
পক্ষান্তরে মজলুম যদি দুষ্কৃতকারী
হয় আর তাকে অন্যরা আক্রমণ
করে, কিংবা হত্যা করে, তবে
প্রতিবেশীরা আরও খুশি হয়। কেউ
তার প্রতি সাহায্যের হাত
বাড়ায় না। এ সমাজে যারা
ভালো মানুষ, যারা ভালো কাজ
করে, তারা মানুষের সম্মান ও
শ্রদ্ধা-ভক্তি পায়, চাই সেটা
সামাজিকভাবে কার্যকর হোক
আর না হোক। তারা সমাজের
মানুষের অন্তর-রাজ্য দখল করে
নেয়। আল্লাহপাক সর্বজ্ঞ ও
অন্তর্যামী। তিনি মানুষের
অন্তরের খবর জানেন। যার অন্তর
ভালো, আল্লাহপাক সাহায্য
করতে তার দিকে এগিয়ে আসেন।
আল্লাহর সাহায্যকে কেউ
প্রতিহত করতে পারে না।
মৃত্যু অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার। মৃত্যু
থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামও মৃত্যু থেকে বাঁচতে
পারেননি। সুতরাং সবাইকে
মৃত্যুবরণ করতে হবে। আখেরাত
যেন সুখের হয়, সে জন্য দুনিয়া
থেকেই নেক আমল ও পাথেয়
সংগ্রহ করে নিতে হবে।
লেখক : মহসিন ফরিদ
রাংগুনিয়া,
