শবে বারাআতে করণীয় ও বর্জনীয় আমল।
শবে বারাআতকে আমাদের দেশে
অনেকে
বাড়াবাড়ি রকমে পালন
করেন। এটা ঠিক নয়।
মনে রাখতে হবে--এ
রাতের ইবাদত নফল ও
ইনফেরাদী বা যার যার
পার্সোনাল বিষয়। তাই
বেশী আড়ম্বরতা
প্রদর্শন বা একে অত্যাধিত গুরুত্ব দিয়ে
ফরজ বা
ওয়াজিবের সমতুল্য
জ্ঞান করা অনুচিত।
এ রাতে যে যার মতো
নিজ নিজ ঘরে একাকিভাবে ইবাদত-
বন্দেগী করা উচিত।
আর ঘরে ইবাদতের
পরিবেশ না থাকায়
মসজিদে গেলেও
সেখানে জমায়েত বা
আড়ম্বরতা না করে
যার যার মতো একাকি
ইবাদতে লিপ্ত থাকা কর্তব্য।
অনেকে এ রাতের
ইবাদতের বিশেষ নিয়ম বানিয়ে নেন,
যেমন, সন্ধ্যার সময় গোসল করতে হবে,
এতে এক রাক‘আত নামায এই
এই সূরাহ এতবার পড়ে
আদায় করতে হবে,
অনেকে আবার শবে
বারাআতে নফল নামায
বা কিয়ামুল লাইল
জামা‘আতে পড়ার
প্রয়াস চালান--এগুলো
সবই ভুল প্রথা।
বরং এ রাতের নামাযের
জন্য কোন সূরাহ
নিদিষ্ট নেই। সাধারণ
নফলের নিয়মেই দুই
দুই রাক‘আত করে বা ৪
রাক‘আত করে যে কোন সূরাহ দিয়েই
পড়া যায়। আবার সময়-সুযোগ অনুযায়ী
কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার,
তাসবীহ-তাহলীল পাঠ এবং
কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর নিকট
তাওবা-ইস্তিগফার করে প্রাণ খুলে
নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল ও
কামিয়াবীর জন্য দু‘আ-মুনাজাত করা
উত্তম আমল।
এ রাতের বিশেষ নিয়ম
হিসেবে অনেকে হালুয়া-রুটি বিতরণ
করেন। এ নিয়ম ইসলামে নেই। তাই এটা
বিদ‘আতী প্রথা।
অধিকন্তু পথে-ঘাটে
জীবজন্তুর আকারে
তৈরী করা রুটি বিক্রয় করতে দেখা
যায়। এটা সম্পূর্ণ নাজায়িয বিষয়।
জীবজন্তুর মূর্তি বা
প্রতিকৃতি তৈরী করা
এমনিতেই নাজায়িয়,
তার উপর শবে বারাআতের
পবিত্রপরাতের সাথে তাকে
সংশ্লিষ্ট করা আরো মারাত্মক গুনাহর
কাজ। অনুরূপভাবে বিভিন্ন
স্থানে শবে বারাআত
উপলক্ষে আলোকসজ্জা বা আতশবাজি
করা হয়,
আবার বিভিন্ন স্থানে
মোমবাতি সজ্জা করা
হয়, এটা অগ্নিপূজকদের
কালচার--যা থেকে দূরে
থাকা জরুরী।
অনেক ছেলেমেয়ে এ
রাতে পটকা ফুটায়,
তারাবাতি জ্বালায়,
মরিচাবাতি উড়ায়--
এগুলো অত্যন্ত গর্হিত কাজ-- যা এ
রাতের পবিত্রতাকে ক্ষুন্ন করার
শামিল।
শবে বারাআত উপলক্ষে বিভিন্ন
দোকানে এসব কিছুর পসরা দেখা যায়।
তা গুনাহে সহায়তার
শামিল। তাই এসব দ্রব্য বিক্রয় করা
নাজায়িয ও হারাম হবে।
এসব গুনাহ ও গর্হিত
কাজ থেকে দুরে থেকে
সহীহভাবে এ রাতে
নফল ইবাদত-বন্দেগী
করা আমাদেরপকর্তব্য। তবে মাগরিব,
ইশা প্রভৃতি
ফরজ নামায যথারীতি
আদায় করা জরুরী।
আবার নফল ইবাদত
করতে করতে যাদের
ঘুম পাবে, তখন জোর
করে জেগে না থেকে
ঘুমিয়ে পড়াও ইবাদত।
অতঃপর শেষ রাতে
জাগ্রত হয়ে সম্ভব
হলে, তাহাজ্জুদ পড়া
এবং পরদিন রোযা
রাখার জন্য সাহরী
খাওয়া বাঞ্ছনীয়।
সর্বপরি সকলের সময়
মতো ফজরের নামায
পড়া একান্ত কর্তব্য।
[হাওয়ালা : আত-তারগীব ওয়াত-
তারহীব, ২য় খণ্ড, ৪২৩ পৃষ্ঠা/ মাজমা‘উয
যাওয়ায়িদ, ৮ম খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠা/ শারহুল
মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা, ১০ম খণ্ড,
৫৮৭ পৃষ্ঠা/
ইকতিযাউস সিরাতিল
মুসতাকীম, ২য় খণ্ড,
৬৪৪ পৃষ্ঠা/ মারাকিল
ফালাহ,৩২১ পৃষ্ঠা প্রভৃতি]
